স্পিরুলিনা ক্যাপসুল।
৬০ ক্যাপসুল ২ বক্স।
স্পিরুলিনা কিঃ- অতি সাধারন ভাষায় স্পিরোলিনা হলো- সবুজ শ্যাওলা বা শৈবাল। যা কিনা আমাদের দেশে খাল-বিলে বা পানিতে জন্মায়। সাগরের তলদেশে এর আরেক নাম সামুদ্রিক শৈবাল নামে পরিচিত। তবে এখন বৈজ্ঞানিক ভাবে এর চাষ ও করা হচ্ছে । যা কৃত্রিম জলাধারে উৎপন্ন করে বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই সবুজ শ্যাওলাটি আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক অনেক উপকারী। স্পিরুলিনা কে প্রোটিনের এক বিরাট উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
স্পিরুলিনার বৈশিষ্টঃ- স্পিরুলিনার বিশেষ বৈশিষ্ট হলো, তা ব্যাপক মাত্রায় শরীরের রেডিয়েশন ইনভোলভমেন্ট বাধা দেয়।জাপানিরা বেশিদিন বা লম্বা সময় বেঁচে থাকার একমাত্র জাদুকাঠি হলো-সবুজ শ্যাওলা বা স্পিরুলিনা। জাপানে এটি নড়ি নামে পরিচিত। জাপানিরা খাবারের সময় প্রচুর পরিমানে স্পিরুলিনা খায়।
রোগ প্রতিরোধে স্পিরুলিনারঃ- বিসিএসআইআর’র বায়োলজিক্যাল রিসার্চ ডিভিশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমান বাজারে স্পিরুলিনা ক্যাপসুল, পাউডাররূপে পাওয়া যায়। এছাড়া চা পাতি বা রুটি, আলুভর্তা, নুডলস্, শরবত, হালুয়া ইত্যাদিতে স্পিরুলিনা মিশিয়ে নানা জাতীয় খাবার তৈরি করা সম্ভব।
উপকারিতা ও গুনাবলি:
* ৬০-৬৩% উদ্ভিজ্জ আামিষ স্পিরুলিনায় আছে যা কিনা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি।
* স্পিরুলিনায় অধিক পরিমানে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খণিজ পদার্থ থাকে।
* সাধারন খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যাবে প্রতিদিন।
* মুল্যবান ভেষজ হিসেবে দেশে- বিদেশে স্পিরুলিনার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
* স্পিরুলিনা দেহের শক্তি যোগায় প্রচুর পরিমাণে।
* সাইক্লিস্ট ও অ্যাথলেটিকসদের জন্য স্পিরুলিনা উপকারী খাবার।
* স্পিরুলিনা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য।
* স্পিরুলিনা নিয়মিত খেলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হবে।
* স্পিরুলিনার প্রায় অর্ধেকটাই আমিষ।
* দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।
* পেশিকলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে স্পিরুলিনা । এছাড়াও এটি শরীর থেকে বের করে দেয় দিনের পর দিন জমে ওঠা ক্ষতিকর সব টক্সিন।
* এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রনে।
* সবুজ শ্যাওলাতে ৬০% এর মত সব ভেজিটেবলের প্রোটিন আছে।
* প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন মাছ, মাংস, দুধ বা ডিমর চাহিদা স্পিরুলিনা পুরুন করতে পারে।
গুণধর স্পিরুলিনাঃ-
১. আয়রন – পালং শাকের থেকে ২৩ গুণ বেশী।
২. বিটা ক্যরোটিন – ( ভিটামিন অ ) গাঁজর থেকে ৩৯ গুণ বেশী।
৩. ক্যালশিয়াম – দুধের থেকে ২৬ গুণ বেশী।
৪. প্রোটিন – সয়াবিন থেকে ৩.৭০ গুণ বেশী।
৫. স্প্রিরুলিনায় ওমেগা ৩. ৬ ও ৯ আছে।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য স্পিরুলিনার উপকারিতাঃ- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটা বেশ কাজের। বাচ্চাদের সবসময় সব পুষ্টি খাবার দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না বা সব
খাবার বাচ্চারা খেতেও চায় না। পুষ্টি সমস্যা পুরুনে স্পিরুলিনা এক্ষেত্রে ভালো ভুমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে গবেষণাঃ- ফ্রান্সের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকার বিসিএসআইআর গবেষণাগারে ফ্রান্সের বেক্মা পদ্ধতিতে স্পিরুলিনার চাষ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা দেশের আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে স্পিরুলিনা চাষের কিছু পরিবর্তন করেন। বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্ষুদ্র শৈবাল স্পিরুলিনা চাষের শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিসিএসআইআর’র কাছ থেকে পদ্ধতিটি ইজারা নিয়ে কয়েকটি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্পিরুলিনা উত্পাদন ও বাজারজাত করছে। বর্তমানে বিসিএসআইআর গবেষণাগারের অধীনে বায়োলজিক্যাল রিসার্চ ডিভিশনের বিজ্ঞানীরা স্পিরুলিনার ব্যাপক কার্যকর ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সতর্কতাঃ- শুকনা ও পরিষ্কার পাত্রে স্পিরুলিনা রাখতে হবে। বাতাস বা পানির সংস্পর্শে শুকনা স্পিরুলিনা খাওয়া যাবে না। বেশি মাত্রায় লৌহ ও ভিটামিনের কারণে ব্যবহারকারীর স্পিরুলিনা সহ্য না হলে স্পিরুলিনা খাওয়ার মাত্রা বা পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশের বাজার সম্ভবনাঃ- বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি বাস করে। স্বভাবতই দানাশস্য খাদ্যের চাহিদা কোনোমতে মিটলেও খাদ্যপ্রাণ অর্থাৎ প্রোটিনের ঘাটতি ব্যাপক। ডিম, দুধ, মাছ, মাংস প্রভৃতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। স্পিরুলিনা নামক শ্যাওলা অতি উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ।
স্পিরুলিনা কিভাবে খাবেনঃ- বয়স্কদের জন্য এটা খুবই ভালো একটা খাবার। স্পিরুলিনা Cap পাওয়া যায়। পরিশেষে একটি কথা JS থেকে আজই স্পিরুলিনা কিনুন সুস্থ থাকুন ও সুস্থ ইউন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ- স্পিরুলিনা খাওয়া আরম্ভ করলে প্রথম কয়েকদিন পেটে একটু ভুটভাট করতে পারে। নিরুৎসাহ না হয়ে খাওয়া চালিয়ে গেলে পরবর্তীতে এই সমস্যা থাকবে না।